৫ মাস আগেই ইংল্যান্ডে ‘ফাইনাল’!

0
22

নতুন বছরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। সিটি হেরে গেলে তাদের শিরোপাস্বপ্ন ধূসর হয়ে যাবে। কারও কারও চোখে আজকের ম্যাচটাই ফাইনাল! বাংলাদেশ সময় রাত ২টা শুরু হবে ম্যাচটি। দেখাবে স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ওয়ান ।

এই ম্যাচের পর আরও ১৭টি করে ম্যাচ বাকি থাকবে দুই দলের। আরও ৫ মাস। তা যত ম্যাচই বাকি থাক, লিগে আবার ফাইনাল কী? কিন্তু ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আজ যখন লিভারপুলকে আতিথ্য দেবে ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যাচটি কার্যত হয়ে দাঁড়াবে প্রিমিয়ার লিগের ‘ফাইনাল’।

হয়তো শিরোপা কোনো দলের হাতে উঠবে না, তবে অনেকের চোখে ইংলিশ লিগ শিরোপার নিষ্পত্তি করে দেবে এই ম্যাচই। তবে উল্টোটাও হতে পারে, লিগ শিরোপার দৌড় হতে পারে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। জয়-পরাজয় এখানে এতটাই পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো, ৩ পয়েন্ট এখানে এতটাই মূল্যবান।

জয়ী দল ৩ পয়েন্ট পেলেও এই ধরনের ম্যাচগুলোকে ‘সিক্স পয়েন্টার’ বলা হয়। লিগে এখনো অপরাজিত লিভারপুল ২০ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে, তিনে থাকা সিটির পয়েন্ট ৪৭। পরশু কার্ডিফ সিটিকে ৩-০ গোলে হারানো টটেনহাম এক পয়েন্ট এগিয়ে দুইয়ে, যদিও ম্যাচ খেলেছে একটি বেশি। তা আজ জিতলে সিটির চেয়ে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে যাবে লিভারপুল, আর হারলে সিটি ব্যবধানটা নামিয়ে আনবে ৪ পয়েন্টে। ‘সিক্স পয়েন্টার’ তো আর এমনি এমনি বলা হচ্ছে না!

এই ম্যাচের আগে সিটির ওপরই চাপ বেশি। লিভারপুলের মাঠে মৌসুমে দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎটি ছিল গোলশূন্য ড্র, এবারও ড্র হলে লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ খুব অসন্তুষ্ট হবেন না। কিন্তু সিটিকে জিততেই হবে। চাপটা স্বীকার করে নিয়েছেন সিটির পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভাও, ‘জানি চাপটা আমাদের ওপরই বেশি। না জিতলে এরপর ওদের ধরা কঠিন হয়ে যাবে। সাত পয়েন্ট আর চার পয়েন্টে পিছিয়ে থাকার পার্থক্যটা অনেক।’

প্রায় একই সুর গার্দিওলারও। লিগে সর্বশেষ ম্যাচে সাউদাম্পটনের মাঠে জেতার পর লিভারপুলকে সর্বোচ্চ সম্মানই দিয়েছিলেন সিটি কোচ, ‘শিরোপাদৌড়ে আমাদের প্রতিপক্ষ দলটা (লিভারপুল) এই মুহূর্তে ইউরোপের—হয়তো বিশ্বেরও—সেরা। সে কারণেই আগামী বৃহস্পতিবার (আজ) ম্যাচটা জেতা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যাতে শিরোপা লড়াইটা শেষ পর্যন্ত নেওয়া যায়। লিভারপুল যে অবস্থায় আছে, তাতে আমরা পয়েন্ট হারানো মানেই দৌড় শেষ।’

এ যে শুধুই গার্দিওলার মনস্তাত্ত্বিক খেলা নয়, তার প্রমাণ পেতে আরেকটু পিছিয়ে যেতে হবে। গত মাসেই একটা অনুষ্ঠানে বই পড়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গার্দিওলা বলেছিলেন, ‘আমি বই পড়তে শুরু করি আর তখনই মাথায় চলে আসে “লিভারপুল আর ইয়ুর্গেন ক্লপ”। এরপর আর মনোযোগ দিতে পারি না।’ গত মৌসুমে সিটির যাত্রা নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্রেও লিভারপুলকে নিয়ে গার্দিওলার কথাটা ছিল, ‘ওদের ভয় পাই আমি। ওরা ভয়ংকর, আমি মন থেকেই বলছি এটা।’

কোচিং ক্যারিয়ারে ১০ বছরে ২৪ শিরোপাজয়ী, তর্ক সাপেক্ষে সময়ের সবচেয়ে উদ্ভাবনী কোচকে ভয় ধরানো কম কথা নয়। এমনিতে গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারে ‘নেমেসিস’ হয়ে আছেন ক্লপ। অন্তত ১০ বার মুখোমুখি হয়েছেন, এমন কোচদের মধ্যে শুধু ক্লপের বিপক্ষেই জয়ের চেয়ে গার্দিওলার হার বেশি (১৫ ম্যাচে ৫ জয়, ৮ হার)।

তবে উল্টো দিকে ক্লপও এসব রেকর্ড আর এই মৌসুমের ফর্ম নিয়ে তৃপ্তি নিয়ে বসে নেই। সিটির চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা নিয়ে ভাবছেন না লিভারপুল কোচ, ‘এই ব্যবধান নিয়ে আমরা ভাবি না, একটা সেকেন্ডের জন্যও না।’ গার্দিওলা আর তাঁর দলকে দারুণ সমীহ করছেন, ‘সিটি অসাধারণ একটা দল। আর সিটির মাঠে যাওয়ার আগে কোন দল ভাববে যে, ‘হয়তো আমরাই জিতব? বিশ্বের কোনো দলই না।’

দুই কোচের এত সমীহা, কিন্তু রেফারির বাঁশির পরই যে দুটি দল ‘ফুটবল-যুদ্ধে’ নামবে, তা নিয়ে সংশয় সামান্যই। লিগের শিরোপাদৌড়ে উঁকি দিতে থাকা টটেনহামের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো পর্যন্ত সব ভুলে একটা ‘ফুটবল প্রদর্শনী’র আশায় আছেন, ‘আমি নিরপেক্ষ থেকেই ম্যাচটা উপভোগ করব। ফল নিয়ে ভাবছি না, আমি শুধু প্রদর্শনীটা উপভোগ করতে চাই।’

Facebook Comments